ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে নতুন ফিশারিঘাট দখলের চেষ্টা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-২০ ১৫:৩২:৪১
চট্টগ্রামে নতুন ফিশারিঘাট দখলের চেষ্টা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন চট্টগ্রামে নতুন ফিশারিঘাট দখলের চেষ্টা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের নতুন ফিশারিঘাট ও বাজার দখল এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির নেতারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘বিএনপি নামধারী’ কয়েক ব্যক্তি ঘাট দখলের পর এবার মাছবাজার দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রীতিমতো চাঁদাবাজি করছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় ফিশারিঘাট এলাকায় এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং চাঁদাবাজদের ধরে পুলিশে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে, সেখানে একটি মহল দেশের এত বড় একটি মৎস্য আড়তের ৩৩০ জন ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ফেলেছে।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে পুঁজি করে এই চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চক্রটি বাজারের ভূমিকে নিজেদের ‘ওয়াকফ’ সম্পত্তি দাবি করে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে। এমনকি সম্প্রতি সমবায় সমিতি কার্যালয় পরিদর্শনে আসা সমবায় অধিদপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের ওপরও এই ভূমিদস্যুরা হামলা চালিয়ে আহত করেছে বলে জানা গেছে। এই চক্রের পেছনে ‘আতিক মাঝি’সহ বিএনপি নামধারী কয়েক ব্যক্তি নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে মানববন্ধনে জানান মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

সমিতির সহসভাপতি নুর হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার বর্গফুটের বাজারটি সোনালী যান্ত্রিক মৎস সমবায় সমিতির নামে ২০২৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৫ বছরের জন্য লিজভুক্ত রয়েছে। অথচ একটি চক্র ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি দাবি করে দখলের চেষ্টা করছে।

শুধু তাই নয়, ওয়াক্‌ফ এস্টেটের নাম ভাঙিয়ে এই চাঁদাবাজ চক্র উল্টো ব্যবসায়ীদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, মাছ শিকারের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ ৫৮ দিন ধরে ঘাট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা এমনিতেই চরম অর্থনৈতিক সংকটে আছেন। এর মধ্যেই চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু চক্র পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা ব্যবসা করব নাকি মামলা-হামলার পেছনে দৌড়াব?

এদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাজারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং লাখো মানুষের রুটি-রুজি নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে ‘আতিক মাঝি’সহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ